গ্রামীণ বাংলায় উন্নত জয়েন্ট কেয়ারের বার্তা নিয়ে ওয়াকাথনের নেতৃত্বে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিত
ইন্দ্রজিৎ আইচ (কলকাতা):-পশ্চিমবঙ্গর খ্যাতনামা অর্থোপেডিক সার্জন ডা. অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিত চাঁপাডাঙার টেরেসা হাসপাতালে এক বিশেষ ওয়াকাথনের নেতৃত্ব দেন। এই ওয়াকাথনে সুস্থ হয়ে ওঠা অর্থোপেডিক রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশীদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। গ্রামীণ বাংলায় উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান প্রসার এবং রোগীদের উন্নত চলাফেরার সক্ষমতা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। শহরকেন্দ্রিকতার গণ্ডি পেরিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা ও রোগীকেন্দ্রিক জয়েন্ট কেয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ডা. পণ্ডিতের নিরলস প্রচেষ্টাই এই কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল।
ওয়াকাথনে অংশ নেন বহু রোগী, যাঁরা বিভিন্ন অর্থোপেডিক সমস্যার সফল চিকিৎসার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। ডা. পণ্ডিতের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা ব্যথা জয় করার, চলাফেরা ফিরে পাওয়ার এবং পুনরায় সক্রিয় জীবনে ফেরার অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র চিকিৎসকবৃন্দ, হাসপাতালের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মেরিল হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড-এর প্রতিনিধিরা, যা এই অঞ্চলে মানসম্মত অর্থোপেডিক চিকিৎসা জোরদার করতে এক যৌথ উদ্যোগের প্রতিফলন।
সমবেত অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. পণ্ডিত আর্থ্রাইটিস ও জয়েন্ট সংক্রান্ত রোগের ক্ষেত্রে সময়মতো সঠিক রোগনির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আর্থ্রাইটিস কোনো একক রোগ নয়, বরং একাধিক কারণের প্রভাবে সৃষ্ট একটি উপসর্গ। সঠিক পরামর্শ, ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব হয়। প্রকৃত প্রয়োজন না হলে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও জানান, রোবোটিক সহায়তায় হাঁটু ও হিপ রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির মতো আধুনিক প্রযুক্তি এখন চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে, যা অধিক নিখুঁত অস্ত্রোপচার, দ্রুত সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদে উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করে। দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্ট সুস্থ রাখতে ফিজিওথেরাপি, নিয়মিত ব্যায়াম, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যোগব্যায়ামের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি জানান, টেরেসা হাসপাতালে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সুবিধা উপলব্ধ থাকায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীরাও কোনও আর্থিক চাপ ছাড়াই উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন।
গত দেড় বছরে ডা. অর্ধেন্দু শেখর পণ্ডিতের নেতৃত্বে টেরেসা হাসপাতাল পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অর্থোপেডিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে, যার ফলে বহু রোগীরই কলকাতা যাওয়ার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই ওয়াকাথন সহজলভ্য, উন্নত এবং মানবিক অর্থোপেডিক চিকিৎসার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে—যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা।
Comments
Post a Comment