বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে নীতিগত উদ্যোগের প্রস্তুতি: প্রগ্রেসিভ নার্সিংহোম অ্যান্ড হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের ৯ম রাজ্য সম্মেলনের ঘোষণা করলো
ইন্দ্রজিৎ আইচ (কলকাতা):- পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়কারী বৃহত্তম সংগঠন প্রগ্রেসিভ নার্সিংহোম অ্যান্ড হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশন তাদের ৯ম বার্ষিক রাজ্য সম্মেলনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে আজ এক উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠকের আয়োজন করে।
এই বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি ১৮টি জেলার নার্সিংহোম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ ভেদিক ভিলেজ রিসোর্টে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্য সম্মেলনকে সামনে রেখে সার্বিক সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়। বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন, কার্যকরী রূপরেখা চূড়ান্তকরণ এবং একটি বিস্তৃত অতিথি তালিকা অনুমোদনের মাধ্যমে সম্মেলনকে সুশৃঙ্খল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজ্য চেয়ারম্যান শেখ আলহাজউদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক কানাইলাল দাস, সভাপতি অশুতোষ মণ্ডল এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব— সব্যসাচী সাহা, অঙ্কুর রায় চৌধুরী, গৌতম পাত্র, অমিত কুমার বিশ্বাস, অভিজিৎ মণ্ডল, ডাঃ জয়দেব কোলে, সঞ্জীব দাস, ডাঃ অসিত মণ্ডল এবং ডাঃ মোশারাফ হোসেন প্রমুখ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং উদ্বোধক হিসেবে অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী সুজিত বসুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়াও একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা, বিধায়ক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা জোরদার করা, প্রশাসনিক কাঠামো উন্নত করা এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ বেসরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ গড়ে তোলা। পাশাপাশি, রাজ্যের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্য সাথী’-র কার্যকর বাস্তবায়নে গঠনমূলক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সম্মেলনে একটি বিস্তৃত দাবি সনদ পেশ করা হবে, যেখানে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইন-এর যুক্তিসঙ্গত সংশোধন, একক-জানালা লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রবর্তন, অগ্নিনির্বাপণ ও দূষণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একচেটিয়া প্রথার নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উপস্থিতদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ আলহাজউদ্দিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বিরোধ নয়, সমন্বয়। সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও দায়বদ্ধ চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে একটি সুসংগঠিত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
রাজ্যের সমস্ত জেলা থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আসন্ন এই সম্মেলন পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সংলাপে পরিণত হতে চলেছে।
Comments
Post a Comment