11 থেকে 13 মার্চ মহাজাতি সদনে অনুষ্ঠিত হলো সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের 48 তম সমাবর্তন উৎসব 2026
11 থেকে 13 মার্চ অর্থাৎ বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলো
সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের 48 তম সমাবর্তন উৎসব। ঐতিহ্য - গুরু শিষ্য পরম্পরা আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে এই সংস্থার পথ চলা শুরু হয়েছিলো 1976 সালে।
( 1976 - 2026 ) এই সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে এবারের সমাবর্তন বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদের 50 বছরে সুবর্ন জয়ন্তী বর্ষ পালন ও সমাবর্তন।
ঐতিহ্য - গুরু শিষ্য পরম্পরা আর আধুনিকতা এই সবটা মিলে সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ। উত্তর কলকাতার এই সর্বভারতীয় পরিষদে সারা ভারতের বিখ্যাত শিল্প সংস্কৃতি জগতের শিল্পীরা সংস্কৃতির সব ধারার শিক্ষা প্রদান করেন অগুণিত ছাত্রছাত্রীদের। সারা পৃথিবীতে তাদের অনেক শাখা প্রশাখা রয়েছে 9 হাজারের ওপর। ইউরোপ , ইউ এস এ এবং বাংলাদেশে পরিষদের রেজিস্টার্ড অফিস আছে। এই সর্বভারতীয় পরিষদ দেশের মধ্যে প্রথম বোর্ড যারা দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক সমাবর্তন উৎসব করে ইউরোপে। প্রতি বছরে তাদের সমাবর্তন উৎসবে পাঁচ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রীদের হাতে প্রসংশাপত্র ও মেডেল প্রদান করা হয়। নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, যোগোব্যায়াম সহ সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতি বছর পুরস্কৃত করা হয় সমাবর্তন উৎসবে প্রতি বছর। গত বছর অর্থাৎ 2025 সালে ভারতীয় ডাক বিভাগ সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ এর ৫০ বছর উপলক্ষে প্রকাশ করেছে একটি পোস্টাল স্ট্যাম্প। সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ এর 48 তম সমাবর্তন উৎসব এবং সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড : অমিতা দত্ত এবং
সংস্থার রেকটার ড : গুরু থ্যাঙ্কমনি কুট্টি। এবারের এই বর্ণাঢ্য সমাবর্তন উৎসব উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য , প্রফেসর নির্মাল্য নারায়ন চক্রবর্তী। ছিলেন কন্যাশ্রী ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড : তপতি চক্রবর্তী।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন IAS ড : কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী, গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী প্রাণনাথানন্দ, দা এশিয়াটিক সোসাইটির এডমিনিস্ট্রেটর অনন্ত সিনহা ও
এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বার অফ CAB NABC 2026 এর কৃষ ঘোষ। মঞ্চে ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক কল্যাণ সেন বরাট, নৃত্য শিল্পী কোহিনুর সেন বরাট, অভিনেত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায়, নাট্যকার চন্দন সেন, পন্ডিত অলোক লাহিড়ী, চিত্রশিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় , গৌড়ীয় নৃত্য শিল্পী ড: মহুয়া মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যিক অলোক কুমার দত্ত সহ আরো অনেক গুণীজন। এই বছর কলামনি পুরস্কার পেলেন তারক ঘরাই, ত্রিদীপ কুমার চট্টোপাধ্যায়, পন্ডিত সমর সাহা , জয় নারায়ন শ্রীবাস্তব। সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত কাজল সেনগুপ্ত মেমোরিয়াল আওয়ার্ড পেলেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্য।সংযোজনায় ছিলেন দেবাশিস বসু, দেবব্রত চক্রবর্তী , রনিতা অধিকারী, অরিন্দম দালাল ও আশীষ ঘোষ। এছাড়াও জীবনকৃতি সন্মান, সর্বভারতীয় পুরস্কার , রত্নমণি , ট্যালেন্ট ও মেরিট পুরস্কার এবং বিশারদ ও রত্ন ডিপ্লোমা প্রদান করা হয়। এবছর 1200 ছাত্র ছাত্রী মঞ্চে বিশিষ্ঠ শিল্পীদের হাত থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন ।সর্বভারতীয় পরিষদের যে 80 জন ছাত্র ছাত্রী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন তাঁরা তিনদিনের এই সমাবর্তনে নাচ, গান, আবৃত্তি, মিউজিক সহ নানা বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন । এই সমগ্র অনুষ্ঠানের ভাবনা, পরিকল্পনা এবং পরিচালনায় ছিলেন সর্বভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতি পরিষদ এর সম্পাদক ড : শান্তনু সেনগুপ্ত। সব মিলিয়ে জমে উঠেছিলো তিনদিনের
এই বর্ণাঢ্য সমাবর্তন উৎসব।
Comments
Post a Comment