সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো নাবিক নাট্যমের তিনদিনের বর্ণাঢ্য নাট্য উৎসব 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি (সংবাদ এই সময়):-১৯৭৭ থেকে ২০২৬ প্রায় ৫০ বছর ধরে গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম,  সুস্থ সংস্কৃতির প্রসারে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছেন। সাংস্কৃতিক চেতনা ও নাট্যচর্চা কে আরও সমৃদ্ধ করতে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী নাট্য মিলন উৎসব। গত 6,7 ও 8 ই মার্চ 2026 গোবরডাঙ্গা শিল্পায়ন ষ্টুডিও থিয়েটারের দীপা ব্রহ্ম মঞ্চে, তিন দিন ধরে চলে এই নাট্য মিলন উৎসব। অনুষ্ঠানে ঠাসা এই নাট্য মিলন উৎসবে 6 ই মার্চ ছিল উদ্বোধন ও নাটক। এই দিন গোবরডাঙ্গার পৌরসভার পৌরপ্রধান শঙ্কর দত্ত  ও প্রাক্তন পৌর প্রধান সুভাষ দত্ত  উপস্থিত ছিলেন, এছাড়াও নাট্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোবরডাঙ্গা শিল্পায়নের নাট্যনির্দেশক আশীষ চট্টোপাধ্যায়, গোবরডাঙ্গা নকশার নাট্যনির্দেশক আশীষ দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সমাজ সেবক বাসুদেব কুণ্ডু। দীপা ব্রহ্মের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির শুভ সূচনা হয়। তারপর  অতিথিদেরকে বরণ করে নেওয়া হয় । সকল অতিথি নাবিক নাট্যমের আগামী দিন যাতে আরো শুভ হয় সেই কামনা করেন। এই উৎসবে সাংবাদিক হিসাবে সংবর্ধিত হন নাট্য গবেষক ও সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ। তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক,   উত্তরীয়, স্বারক তুলে দেন নাবিক নাট্যম এর কর্ণধার জীবন অধিকারী। সাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ আইচ তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ের নাটক নিয়ে আলোকপাত করেন। এরপর শুরু হয় নাটকের অনুষ্ঠান প্রথম দিনের প্রথম নাটক ছিল নাবিক নাট্যমের শিশু কিশোর বিভাগের  নাটক "দলছুট" নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন জীবন অধিকারী। সমাজের নানা সমস্যা, মানবিক সম্পর্ক ও সমকালীন বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায় এই নাটকে। শিশু-কিশোরদের এই অভিনয় দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। দ্বিতীয় নাটকটি ছিল খড়দা থিয়েটার জোনের "না না হে" নির্দেশনায় তপন দাস। দর্শকদের উদ্দীপনা এবং তাদের করতালির মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের নাবিক নাট্যমের নাট্য মিলন উৎসব। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ছিল রাখি বিশ্বাসের একক নৃত্য। তার নৃত্যে দর্শক মুগ্ধ হয় করতালির মাধ্যমে তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়। তারপর নাবিক সম্মান প্রদান করা হয় নাবিকের দুজন অতীত কান্ডারী কে  শান্তি রঞ্জন মন্ডল এবং  তরুণ কুমার সাধুখাঁ ।  তাছাড়াও এই দিন সম্মানিত করা হয় সংস্কার ভারতী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি   শাশ্বতী নাথ এরপরই শুরু হয় নাটকের অনুষ্ঠান প্রথম নাটকটি হয় দত্তপুকুর দৃষ্টি নাট্য সংস্থার "সুটকেস" একটি সুন্দর প্রযোজনা। এই নাটকের মঞ্চ দর্শক কে  তৃপ্তি দিয়েছে । এই নাটকের নির্দেশক ছিলেন  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য । এরপরই হয় গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম এর সেই মঞ্চ সফল নাটক "নিহত শতাব্দী" মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির নির্দেশনা করেন জীবন অধিকারী।  হলভর্তি দর্শকের করতালিতে  মুখরিত  হয়ে ওঠে দ্বিতীয় দিনের উৎসব। তৃতীয় এবং শেষ দিনের শুরুতেই ছিল সেমিনার, এই সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল "Froms Of Indian Traditional Theatre" । সেমিনারের বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রতীন রায়  (শিক্ষক), এবং ছিলেন নাট্য গবেষক  ও ভাবনা থিয়েটার পত্রিকার সম্পাদক  অভীক ভট্টাচার্য্য। সেমিনারটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন খড়দা থিয়েটার জোনের নির্দেশক  তপন দাস।  বক্তাদের অসাধারণ বক্তৃতায়  বাংলার সংস্কৃতির শিকড়ের কথা উঠে আসে। সেমিনার পর্বের পরই শুরু হয় নাটকের পর্ব। তৃতীয় দিনের প্রথম নাটক ছিল গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের এবছরের নতুন প্রযোজনা "খেলা" যার নির্দেশনা দিয়েছেন জীবন অধিকারী। অভিনয়,আলোকসজ্জা, সংগীত ও মঞ্চপরিকল্পনার সমন্বয়ে নাটকটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলে। দ্বিতীয় নাটকটি ছিল মছলন্দপুর ইমন মাইম সেন্টারের "হারানো প্রাপ্তি" এই নাটকেরও নির্দেশনায় ছিলেন জীবন অধিকারী। দুটি ভিন্ন স্বাদের নাটকে দর্শক মুগ্ধ হয়, করতালির মাধ্যমে বোঝা যায়  গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের এই নাট্য মিলন উৎসব সত্যিই একটি মিলন উৎসবে পরিণত হয়।  নির্দেশক জীবন অধিকারী জানান  এই নাট্য মিলন উৎসব শুধু নাট্য প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এটি ছিল নাট্যকর্মীদের পারস্পরিক ভাব বিনিময়, নতুন প্রজন্মকে নাটকের প্রতি আকৃষ্ট করা এবং সংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিন দিনের এই উৎসব গোবরডাঙ্গা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিত দর্শক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

Comments

Popular posts from this blog

SH Binayak Multi-speciality Hospital, in association with the Institute of Breast Disease Kolkata and Asian Medical Foundation, launches "SNEHA SPARSHA" - A Dedicated Homecare Initiative for Cancer Patients

দক্ষিণ ২৪পরগনা ঠাকুরপুকুর সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নতুন প্রযুক্তির রেডিওথেরাপি মেশিন এর শুভ উদ্বোধন

बैंक ऑफ इंडिया ऑफिसर्स एसोसिएशन ! पूर्वी भारत शाखाओं की, 60वीं वार्षिक आम सभा की बैठक !