পূর্ব ভারতে মাল্টি-অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে মণিপাল হাসপাতালের ‘কমপ্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার’ উদ্বোধন
ইন্দ্রজিৎ আইচ (কলকাতা):- পূর্ব ভারতে উন্নত অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবার প্রাপ্যতা বাড়াতে মণিপাল হসপিটালস কলকাতায় মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার চালু করল। বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে উদ্বোধন হওয়া এই বিশেষায়িত কেন্দ্রটিতে হার্ট, কিডনি, লিভার এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য সমন্বিত পরিষেবা প্রদান করা হবে। অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বহুমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয়ে রোগী মূল্যায়ন, অস্ত্রোপচার, ট্রান্সপ্ল্যান্ট-পরবর্তী সেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ—সবকিছুই এখানে একসাথে পাওয়া যাবে।
এই কেন্দ্রের সূচনা পূর্ব ভারতে অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, এই অঞ্চলে উন্নত অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসার প্রয়োজন ক্রমশ বাড়ছে। উদ্যোগটির মাধ্যমে কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, হেপাটোলজি, ইউরোলজি, অনকোলজি এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠান চলাকালীন হাসপাতাল গোষ্ঠীর বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বর্তমান ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিস্থিতি এবং অঞ্চলে বিশেষায়িত ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবার বাড়তে থাকা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁদের মতামত ভাগ করে নেন। ট্রান্সপ্ল্যান্টের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. কুণাল সরকার, ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জারি, মণিপাল হাসপাতালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টার, পূর্ব ভারতে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। অন্যদিকে ডা. দিলীপ কুমার পাহাড়ি, ডিরেক্টর – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতালস ইএম বাইপাস এবং ডা. উপাল সেনগুপ্ত, ডিরেক্টর – টিম নেফ্রোলজি ও ক্লিনিক্যাল লিড, মণিপাল হাসপাতাল ধাকুরিয়া এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট – মণিপাল হাসপাতালস ব্রডওয়ে, সল্টলেক ও মুকুন্দপুর, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি প্রফেসর (ডা.) রাজীব দে, কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অনকোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (বিএমটি), মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস, এই অঞ্চলে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাঁর মতামত জানান।
ট্রান্সপ্ল্যান্ট চিকিৎসায় সমন্বিত পরিষেবার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. উপাল সেনগুপ্ত বলেন, “এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের জন্য কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। তবে ভারতে এখনও চাহিদা এবং ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রাপ্যতার মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। দেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লক্ষ রোগীর কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়, কিন্তু বাস্তবে মাত্র পাঁচ থেকে সাত হাজার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব হয়। মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের মাধ্যমে আমরা পূর্ব ভারতে মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে চাই, যেখানে নেফ্রোলজি, ইউরোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করে রোগীদের জন্য মূল্যায়ন থেকে অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করবেন।”
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ডা. উপাল সেনগুপ্তর সঞ্চালনায় একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞরা অঞ্চলে ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জ, অগ্রগতি এবং সমন্বিত কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন ডা. অর্ঘ্য মজুমদার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অ্যাডভাইজর – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ধাকুরিয়া; ডা. অভিনন্দন ব্যানার্জি, ক্লিনিক্যাল লিড – মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর এবং সিনিয়র
কনসালট্যান্ট – টিম নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে, সল্টলেক ও ধাকুরিয়া; ডা. স্মার্ত্য পুলাই, ক্লিনিক্যাল লিড – মণিপাল হাসপাতালস সল্টলেক ক্লাস্টার এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট – টিম নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতালস ধাকুরিয়া ও মুকুন্দপুর; ডা. দিলীপ কুমার পাহাড়ি, ডিরেক্টর – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতালস ইএম বাইপাস; ডা. রঞ্জন সরকার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অ্যাডভাইজর – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে ও সল্টলেক; ডা. অভয় কুমার, ডিরেক্টর – ইউরোলজি ও ইউরো-অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি, মণিপাল হাসপাতালস মুকুন্দপুর, ব্রডওয়ে ও সল্টলেক; ডা. টি. কে. সাহা, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি ও রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট, মণিপাল হাসপাতালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টার; ডা. পি. কে. মিশ্র, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি ও রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট, মণিপাল হাসপাতালস মুকুন্দপুর ও ধাকুরিয়া; ডা. বাস্তব ঘোষ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ধাকুরিয়া; এবং ডা. রাজীব সিনহা, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি (পেডিয়াট্রিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট), মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর।
এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. আয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর – ইস্ট, মণিপাল হাসপাতালস বলেন, “মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের উদ্বোধন পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ক্রনিক কিডনি ডিজিজের মতো সমস্যার কারণে এই অঞ্চলে অঙ্গ বিকলতার হার ক্রমশ বাড়ছে। সারা দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী কিডনি, লিভার এবং হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের অপেক্ষায় থাকেন, কিন্তু বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব হয়। এই সমন্বিত কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের চিকিৎসা দক্ষতা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং বহুমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একত্রিত করে ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে চাই, রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করতে চাই এবং অঙ্গদানের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চাই।”
মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের উদ্বোধনের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতালস কলকাতা পূর্ব ভারতে জীবনরক্ষাকারী অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট চিকিৎসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে আরও একবার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরল।
Comments
Post a Comment