রামকৃষ্ণ মিশন আদ্যাপীঠ গোশালায় অন্যরকম রাখি উৎসব:
শুভ ঘোষ (কলকাতা):-রাখিপূর্ণিমার অত্যন্ত পবিত্র ক্ষণে এক অনন্য ও আধ্যাত্মিক আবহে রাখিবন্ধন উৎসব উদযাপিত হলো রামকৃষ্ণ মিশন আদ্যাপীঠের বিশাল গোশালা প্রাঙ্গণে। এই বিশেষ দিনে গোশালার সমস্ত গৌমাতা এবং নন্দী মহারাজকে পরম শ্রদ্ধার সাথে রাখি পরিয়ে ও আরতি করে তাঁদের সেবা করা হয়। সনাতন ধর্মে গৌমাতার স্থান দেবতুল্য। শাস্ত্রে বলা হয়েছে—"সর্বদেবময়ী হী গৌঃ সর্বদেবময়ো হরিঃ "(অর্থাৎ, গৌমাতা সর্বদেবময়ী এবং শ্রীহরি সর্বদেবময়।)এই সনাতন ভাবনাকে সমাজের সমস্ত স্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য উৎসবের দিন সকালে গোশালার সমস্ত বাসিন্দাদের চন্দন- কুমকুমের তিলক পরানো হয়,প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করা হয় এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে মঙ্গল কামনা করা হয়। এরপর পরম যত্নে ও ভালোবাসায় তাঁদের প্রিয় পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী খাওয়ানো হয়।এই অনন্য উৎসবের মূল উদ্যোক্তা তথা একনিষ্ঠ গৌমাতা সেবক শ্রী পিনাকী গাঙ্গুলী এবং তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা, বিশেষ করে তার সমমনো ভাবাপন্য সঙ্গী শ্রী সত্যজিৎ বেহেরা, শ্রী সৌভিক মজুমদার এবং অন্যান্য সঙ্গীরা এই পবিত্র কর্মযজ্ঞে উপস্থিত থেকে সমস্ত আয়োজন সুসম্পন্ন করেন। গৌশালার প্রধান অশোক ঘোষের কথায় জীবের মধ্যে শিবের প্রকাশকে অনুভব করে সেবা করাই রামকৃষ্ণ মিশনের মূল আদর্শ। স্বামী বিবেকানন্দের সেই অমর বাণী স্মরণ করে এই সেবা সম্পন্ন হয়:"বহুরূপে সম্মুখে তোমার, ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর।"
"উৎসবের শেষে উদ্যোক্তাদের পক্ষথেকে শ্রী পিনাকী গাঙ্গুলী সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে একটি বিশেষ আবেদন ও আহ্বান করেন তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এই অসহায়, নির্বাক ও ঈশ্বরস্বরূপ প্রাণীদের কে প্রত্যেকটি মানুষের উচিত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদিন সামান্য হলেও সেবা করা। প্রতিদিন এক মুঠো ঘাস বা এক টুকরো রুটি খাইয়েও আমরা এই পুণ্য অর্জন করতে পারি। শ্রী সত্যজিৎ বেহরা বলেন আসুন, এই রাখিবন্ধনে আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি আমরা আমাদের চারপাশের অসহায় প্রাণীদের রক্ষা করব এবং প্রতিদিন সামান্য হলেও তাদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করব।
Comments
Post a Comment