গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন" অনুষ্ঠান

ইন্দ্রজিৎ আইচ (কলকাতা): গত ১৫ ই আগস্ট ২০২৬ শনিবার গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা, আবেগ ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত হয় স্বাধীনতা দিবস।  দেশপ্রেম, সংস্কৃতি ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধায় এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেছিল গোবরডাঙা নাবিক নাট্যম। দিনের শুরুতেই সকাল ৯ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন  নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক  আশীষ চট্টোপাধ্যায়। যখন তেরঙ্গা পতাকা ধীরে ধীরে আকাশের বুকে উড়ে উঠল, তখন উপস্থিত সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো বন্দেমাতারম সংগীত।  সেই মুহূর্তে ছোট-বড় সকলের চোখে ছিল গর্ব, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মনে হচ্ছিল - এই পতাকার প্রতিটি রঙের সঙ্গে মিশে রয়েছে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন। পতাকা উত্তোলনের পর  আশীষ চট্টোপাধ্যায় এবং  গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম এর প্রতিষ্ঠাতা  সোমনাথ রাহা এই দিনে তাৎপর্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। স্বাধীনতার আনন্দকে শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের সাথে ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যম এর পক্ষ থেকে  ১০০ টি জাতীয় পতাকা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তটি ছিল এক অনন্য আবেগঘন মুহূর্ত। প্রত্যেকের হাতে ছোট্ট একটি তেরঙ্গা, অথচ তার মধ্যে যেন বহন করছিল সমগ্র দেশের গৌরব ও আত্মমর্যাদা। গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের মহড়া কক্ষে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে শুরু হয় বর্ণময় সংস্কৃতি অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী  সোনালী দাস, তারপর এলাকার শিল্পীদের অংশগ্রহণে নৃত্য, সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও বিভিন্ন স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শিল্পীদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উঠে আসে দেশকে ভালোবাসার কথা, মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্বের কথা এবং স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থের কথা। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের গান ও কবিতার সমন্বয়ের সৃষ্টি "মাতৃভূমির আহ্বান "  এটি কেবলমাত্র একটি প্রযোজনাই নয় - এটি ছিল মাটির প্রতি, দেশের প্রতি এবং মাতৃভূমির প্রতি এক আবেগময় শ্রদ্ধার্ঘ্য। এই প্রযোজনায় ফুটে ওঠে স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস যেমন গৌরবের তেমনি সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। এই প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেন শ্রাবণী সাহা, মামন চৌধুরী, লক্ষণ বিশ্বাস, শর্মিষ্ঠা সাধুখাঁ, সৌরজ্যোতি অধিকারী, সোনালী দাস, মধুছন্দা চক্রবর্তী, অদিতি সাধুখাঁ, শর্বানী অধিকারী এবং গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের  অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা  প্রদীপ কুমার সাহা। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দলের সম্পাদক  অনিল কুমার মুখার্জি, সাথে ছিলেন অশোক বিশ্বাস এবং সুব্রত কর্মকার। প্রযোজনাটি দর্শকদের মধ্যে এক নীরব আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করে । সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন   মিহির লাল চক্রবর্তী। গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের নাট্য নির্দেশক জীবন অধিকারী জানান এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো, স্বাধীনতার ইতিহাস কে স্মরণ করা, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা। তিনি আরো বলেন স্বাধীনতা শুধু উদযাপনের বিষয় নয়, স্বাধীনতা রক্ষা করাও আমাদের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। দেশকে ভালোবাসা শুধুমাত্র কথায় নয়, আমাদের কাজের মধ্যেও তার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। কারণ নাটক ও সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ে যে আলো জ্বালতে পারে, সেই আলোই একদিন সমাজকে আরও মানবিক, আরও সচেতন এবং আরও দেশ প্রেমিক করে তুলবে।  সেই বিশ্বাসকে সামনে রেখে গোবরডাঙ্গা নাবিক নাট্যমের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সমাপ্ত হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে

Comments

Popular posts from this blog

কলামন্ডলম এর আয়োজনে গত ২৫ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হলো এই প্রথমবার মান্না দে এর গানের সাথে ধ্রুপদী নৃত্যানুষ্ঠান

বাংলার কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী ডঃ ইন্দ্রাণী সেনের সঙ্গীত কর্মশালা

Narayana Schools, West Bengal sets a Landmark Performance in CBSE Class X Board Results 2026