২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হতে চলেছে সর্ব ভারতীয় ব্যাংক ধর্মঘট
ইন্দ্রজিৎ আইচ (কলকাতা):-ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস (UFBU) হল ব্যাংক কর্মী ও আধিকারিকদের সাতটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ মঞ্চ। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক, আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক এবং সমবায় ব্যাংক মিলিয়ে ব্যাংকিং শিল্পের ৯০ শতাংশেরও বেশি কর্মীকে UFBU প্রতিনিধিত্ব করে।
UFBU-র অন্তর্ভুক্ত সাতটি সংগঠন হল—
১. অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (AIBEA)
২. অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশন (AIBOC)
৩. ন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ ব্যাংক এমপ্লয়িজ (NCBE)
৪. অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (AIBOA)
৫. ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (BEFI)
৬. ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ব্যাংক অফিসার্স কংগ্রেস (INBOC)
৭. ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (INBEF)
আজ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়ন ( ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিটের) কনভেনর সুদীপ দত্ত এক সাংবাদিক সম্মেলনে
জানালেন, আমাদের
UFBU-এর পক্ষ থেকে আন্দোলন কর্মসূচি এবং সর্বভারতীয় ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে আগামী
২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর। এর
আগে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ব্যাংক ধর্মঘট পালন হয়েছে।
যদি এই দাবি আমাদের মেনে না নেয় তাহলে ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে লাগাতার ও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হবে। এবার প্রশ্ন হলো
কেন এই ধর্মঘট?
সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাংক পরিষেবা চালুর দাবি
দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলি সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পূর্ণদিবস এবং প্রতি শনিবার অর্ধদিবস কাজ করত। ২০১৫ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সম্মত হওয়া হয়েছিল যে, প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাংক ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর পরিবর্তে বাকি শনিবারগুলিকে, আগে যেখানে অর্ধদিবস কাজ হতো, সেখানে পূর্ণ কর্মদিবস করা হবে। পাশাপাশি, পরবর্তী সময়ে সমস্ত শনিবারকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করার জন্য উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তিতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় IBA/ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয় যে, সমস্ত শনিবার ছুটির দাবিটি নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে এবং একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।
সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাংক পরিষেবা চালুর দাবি
পরবর্তী বেতন পুনর্নির্ধারণের জন্য আলোচনাতেও এই দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে IBA/ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছিল যে বাকি শনিবারগুলিকেও ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এর পরিবর্তে ইউনিয়নগুলি সম্মত হয়েছিল যে সোমবার থেকে শুক্রবার প্রতিদিনের কাজের সময় ৪০ মিনিট করে বাড়ানো হবে।
এই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য ভারত সরকারের অর্থমন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আড়াই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি এখনও অর্থমন্ত্রকের কাছে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, RBI, LIC, GIC, NABARD, বেসরকারি সংস্থা, শেয়ার বাজার, মানি মার্কেট, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ইত্যাদি ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৫ দিন কাজের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাংকগুলিতেও মাসের দুটি শনিবার ইতিমধ্যেই ছুটি রয়েছে। এখন বাকি শনিবারগুলিকেও ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হচ্ছে।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে এস বি আই অফিসার্স এসোসিয়েশন ( বেঙ্গল সার্কেল ) এর সাধারণ সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানালেন
গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকের পরিষেবা দেওয়ার সময় কমবে না। কারণ, ইউনিয়নগুলি সোমবার থেকে শুক্রবার প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজের সময় দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মী ও আধিকারিকরা সাধারণ গ্রাহকদের সর্বোচ্চ পরিষেবা দিয়ে আসছেন। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও ব্যাংক কর্মীরা দেশের মানুষের পরিষেবা দিয়েছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ব্যাংকের কাজ অত্যন্ত চাপযুক্ত হয়ে উঠেছে। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বাকি শনিবারগুলিকেও ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করে সপ্তাহে ৫ দিন কাজের ব্যবস্থা চালু করা UFBU-এর মতে একটি যুক্তিসঙ্গত দাবি।অবশিষ্ট বিষয়গুলির নিষ্পত্তি এবং অমীমাংসিত দাবিগুলির সমাধান
৮ মার্চ, ২০২৪ তারিখে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় ইউনিয়নগুলির উত্থাপিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তাই ওই বিষয়গুলিকে অবশিষ্ট দাবি হিসেবে পরবর্তীতে আলোচনায় তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। UFBU-এর পক্ষ থেকে Dy. CLC, DFS এবং IBA-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানানো হয়েছে যে, পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লারিক্যাল ও সাব-স্টাফ নিয়োগ, NPS থেকে OPS-এ পরিবর্তন, ব্যাংকের NPS-এ অতিরিক্ত ৪ শতাংশ অবদানের উপর আয়কর থেকে ছাড়, Gratuity Act-এর অধীনে গ্র্যাচুইটির ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি, পেনশনের সংশোধন, পেনশনের ক্ষেত্রে অভিন্ন DA, প্রি-নভেম্বর ২০২২ পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধন, সমস্ত বেসরকারি ব্যাংকে এক্স-গ্রেশিয়া প্রদান, ব্যাংকে Workman ও Officer Director পদে মনোনয়ন না করা, Leave Bank চালু করা, অবসরপ্রাপ্তদের মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্সের প্রিমিয়াম ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বহন করা ইত্যাদি একাধিক দাবি এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। আমাদের সমঝোতা বৈঠকে কোনও ফল হয়নি। গত
৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে Chief Labour Commissioner এবং Dy. Chief Labour Commissioner-এর উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রকের আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সরকার সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে পারেনি। ফলে ধর্মঘট এড়ানোর জন্য কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের কারণে ইউনিয়নগুলি আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে UFBU-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ধর্মঘটের ফলে ধর্মঘটের দিন সমস্ত ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকবে এবং কোনও ব্যাংকিং পরিষেবা পাওয়া যাবে না। এই তিনদিনের ধর্মঘটের জন্য আমরা গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কারণ আমাদের এই দাবি গুলো ন্যায় সঙ্গত বলে মনে করি।আগামীদিনে গ্রাহকদের আরও ভালো পরিষেবা দেবার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইন্দ্রনীল মিত্র, জয়দেব দাশগুপ্ত, পবিত্র চট্টোপাধ্যায়, গোপাল নাগ।
Comments
Post a Comment