তপন থিয়েটারে ‘নাথুরাম বলছি’র প্রথম অভিনয় যা এক কথায় মনে রাখার মতো
ইন্দ্রজিৎ আইচ (সংবাদ এই সময়):-ইতিহাস কি শুধুই অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার মৃত নথি, নাকি তা আজ ২০২৬ সালেও আমাদের মগজে বেঁচে থাকা কোনো বিষাক্ত মনস্তত্ত্বের আয়না? ১৯৪৮ সালের বিড়লা হাউসের অভিশপ্ত গোধূলিলগ্ন থেকে আজকের উগ্র সামাজিক আবহাওয়া—এই চিরায়ত সামাজিক সংঘাতকেই থিম করে গত ৩১শে আগস্ট তপন থিয়েটারের প্রায় পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে সাড়ম্বরে অভিনীত হলো মিতালী উৎসব নাট্য সংস্থা (মিউনাস)-এর ২৭তম বর্ষের বিশেষ নাট্যপ্রযোজনা ‘নাথুরাম বলছি’। নাট্যকার ও নির্দেশক উৎসব দাসের মনস্তাত্বিক অথচ প্রাঞ্জল রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এই নতুন কাজটির প্রথম প্রদর্শনী দেখতে শহরের নাট্যপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
নাটকটির প্রধান ভিত্তি হলো এর গভীর মনস্তাত্ত্বিক ভাবনা। কোনো প্রথাগত বায়োপিক না হয়েও, এটি মানুষের অবচেতন মন ও যৌথ প্রলাপের মধ্য দিয়ে অহিংসার সার্বজনীন প্রজ্ঞা এবং উগ্র চরমপন্থার অন্ধ যুক্তির এক উত্তপ্ত বিচারালয় তৈরি করে। প্রসেনিয়াম মঞ্চের ক্যানভাসে নাট্যকার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেখিয়েছেন কীভাবে উগ্র হিংসা কোনো নির্দিষ্ট যুগে আটকে থাকে না, বরং সুযোগ পেলেই তা সাধারণ মানুষের জীবন কেড় নেয়।
অভিনেতাদের শানিত সংলাপ প্রক্ষেপণ, বাচনিক সংঘাত, অজিত রায়ের সুচিন্তিত প্রতীকী সেট, বাবলু সরকারের আলো-ছায়ার সূক্ষ্ম বিন্যাস এবং সৌমেন দত্ত-র গম্ভীর আবহ সংগীত পুরো সময় দর্শকাসনকে স্তব্ধ করে রাখে। প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা উষ্ণ করতালি প্রমাণ করে, উগ্রতার বিরুদ্ধে এবং সামাজিক বিবেকের পক্ষে দাঁড়িয়ে মিউনাসের এই নতুন ভাবনার প্রযোজনাটি দর্শকমনকে গভীরভাবে স্পর্শ করতে সফল হয়েছে।
Comments
Post a Comment