শরতের কবি " বন্ধুত্বের সম্পর্ক কতটা গভীর হয় এই নাটকে সেটাই দেখানো হয়েছে
চলতে গিয়ে অনেক কিছু দেখি। অনেক কিছু ভাবি।কথায় বলে ভালো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমাদের আশেপাশে অনেক মানুষ ঘুরে বেড়ায় যারা বন্ধুত্বের নামে মুখোশ পড়ে ঘোরে। তাঁদের আমরা চিনতে পারি নিজেদের বিপদের সময়ে। আর যেটা খুব কষ্ট করে পাওয়া যায় সেটা হলো সম্মান, যেটা হৃদয় দিয়ে পাওয়া যায় সেটা হল ভালোবাসা, আর যেটা অনেক ভাগ্য করে পাওয়া যায় সেটা হলো একজন প্রকৃত বন্ধু। শরৎ এবং কবিতা, মানে শরতের কবি, এদের দুজনের বন্ধুত্বের গাথাই এই নাটকের মূল উপজিব্য। এই নির্মল বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলত। কিন্তু কোনো কটুক্তি তাদের সম্পর্কে চিড় ধরাতে পারেনি। কলেজে পড়াকালীন দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ঘটনাচক্রে শরৎ ডাক্তারী পড়তে বিদেশ চলে যায় আর কবিতা বিয়ে করে সংসারী হয়। কিন্তু তিন বছর গড়ালেও সন্তান না হওয়ায় কবিতার উপর চলে শ্বশুরবাড়ির শাররীক ও মানসিক অত্যাচার। ফলে ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের কিছুদিন পরেই কবিতা জানতে পারে সে সন্তান সম্ভবা। তারপর, একটু আশ্রয়ের জন্য দরজায় দরজায় ঘোরা, অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করা, বন্ধু শরতকে সঙ্গে নিয়ে কঠিন-কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াই করা। নাটকের শেষে এটাই প্রতীত হয় যে, একটি পুরুষ ও মহিলার বন্ধুত্ব মানেই প্রেম নয়, একটি সুস্থ সুন্দর নির্মল সম্পর্ক। সম্প্রতি বরা নগর রবীন্দ্র ভবনে মঞ্চস্থ হলো
নাটকের বাস্তবতা সৃষ্টির অন্যতম উপাদান সংলাপ। রচনার কৌশল ও চরিত্র অনুযায়ী সংলাপ নাটককে সমৃদ্ধ করে,যা এই নাটকে নাট্যকার বেবী সেনগুপ্ত সুন্দর ভাবে ব্যবহার করেছেন। নাটকের কাহিন আপাতত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও চিন্তার কাঠামো ও প্রকারন শৈলীতে রীতিমতো অগ্রবর্তী এবং নাট্যকারের তীক্ষ্ণদর্শী জীবন সন্ধান অনেক বেশি প্রকাশিত এই নাটকে। ভালো রান্না করতে যেমন সবসময় মহার্ঘ জিনিষপত্রের প্রয়োজন হয় না, তেমন কেউ কেউ সামান্য আয়োজনে শুধুমাত্র হাতের গুনে এমন রান্না করেন যার স্বাদ আজীবন ভোলা যায় না। অভি সেনগুপ্ত বাঙলা নাটকের সেরকমই একজন পরিচালক যিনি স্বল্প উপাদানে পরিচালনার গুনে যে কোনো নাটককে উৎকর্ষের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারেন। এ নাটকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটার পর একটা দৃশ্যকে যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে যে ভাবে নাটকের উত্তোরন ঘটিয়েছেন তা প্রশংসার অপেক্ষা রাখে না।
নাটকের প্রধান দুই চরিত্র শরৎ ও কবিতার চরিত্রে যথাক্রমে অভি সেনগুপ্ত ও বেবী সেনগুপ্ত তাদের সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে আর একবার প্রমাণ করলেন যে তারা বর্তমান বাঙলা নাটকের অন্যতম সেরা জুটি। তাদের যুগল অভিনয় নাটকটিকে কোনো সময়ই দর্শকদের মুহূর্তের জন্যও নাটক থেকে বেরিয়ে যাবার সুযোগ দেননি।তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অভিজিৎ মজুমদার, সুব্রত সরকার, তপন বিশ্বাস ও মৌসুমী পাল অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটিকে দর্শকদের কাছে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সর্বানী ব্যানার্জী ও তিথি বিশ্বাসের আলো,তপন বিশ্বাসের আবহ ও অয়ন ভট্টাচার্যের মঞ্চ নাটকের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করেছে।
সব মিলিয়ে সবার দেখার মতন নাটক শরতের কবি।
Comments
Post a Comment