ডি এম হাসপাতালের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো স্বাস্থ্যমেলা ২০২৬
ইন্দ্রজিৎ আইচ (কলকাতা):- ঠাকুরপুকুরের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল অফ ডিএম হাসপাতালের উদ্যোগে এবারের ২০ তম স্বাস্থ্যমেলা অনুষ্ঠিত হল হাসপাতাল প্রাঙ্গনে। স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ক্রনিক কিডনির অসুখ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এগিয়ে এসেছে। ২০০৭ সালে ডিএম হাসপাতালের পথ চলা শুরুর সময় থেকেই খ্যাতনামা নেফ্রোলজিস্ট ও হাসপাতালের চেয়ারপার্সন ডা. দয়ানাথ মিশ্রর উদ্যোগে কিডনির অসুখ সম্পর্কে সতেচনতা গড়ে তুলতে স্বাস্থ্য মেলার আয়োজন করেন হাসপাতালের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিরেক্টর অন্নপূর্ণা মিশ্রর সহযোগীতায়। ডা মিশ্র তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় বুঝেছেন যে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গেলে চিকিৎসকদের সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে ছাত্র সমাজকেও। এই ভাবনাকে সামনে রেখে স্থানীয় স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রনিক কিডনির অসুখ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানর পাঠ দেওয়া শুরু করেন।
আসলে চিনের পরেই ভারতবর্ষ, ক্রনিক কিডনির অসুখের নিরিখে বিচার করলে আমাদের দেশ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে। ক্রনিক কিডনির অসুখের জন্য মূলে আছে অনিয়ন্ত্রিত ডায়বিটিস এবং ব্লাড প্রেশার। এই দুই সমস্যা থাকলে বছরে অন্তত একবার কিডনি সংক্রান্ত কিছু পরীক্ষা করিয়ে নিতে হয়। এর ফলে একদম প্রাথমিক অবস্থায় অসুখটি ধরা পড়লে রোগটা আটকে দেওয়া যায়। প্রতি বছর স্বাস্থ্যমেলা শুরুর দুমাস আগে থেকে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কিডনির অসুখের প্রাথমিক দিক সম্পর্কে সবিস্তারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে ছোটদের মনে ব্যাপারটা গেঁথে যায়, নিজের পরিবার সহ পড়শীদের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে সহজেই। এবারের ২০ তম স্বাস্থ্যমেলায় স্কুলের ছেলেমেয়েরা সিপিআর অর্থাৎ কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেন। সিপিআর জানা থাকলে আচমকা জ্ঞান হারানো কোনও মানুষকে জীবনের আলোয় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রতি বছর ডিএম হাসপাতালের তরফে ৫০ জন ছাত্রকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ডায়বিটিস, হাইপারটেনশন সম্পর্কে জেনারেল প্র্যাক্টিশনারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিয়ে নিয়মিত সিএমই করা হয় প্রতিমাসে। ডিএম হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত মোট ১৫০ টিরও বেশি সিএমই-র আয়োজন করেছেন। এই স্বাস্থ্যমেলায় ডিএম হাসপাতালে চিকিৎসারত অজস্র রোগী অংশ নেন এবং নিজেদের ভাল থাকা ও সুবিধে অসুবিধের কথা জানান। এই হাসপাতালটিতে কিডনির অসুখের জরুরী অবস্থার মোকাবিলা করার এমার্জেন্সি বিভাগ আছে। নেফ্রাইটিস, ডায়বিটিস, ব্লাড প্রেশার থাকলে নিয়ম করে কিডনি চেক আপ করাতে হবে। স্বাস্থ্যমেলায় স্থানীয় কয়েকশ মানুষ অংশ্রগ্রহণ করেন। তাঁদের বিনামূল্যে চেক আপ করা হয়। এঁদের মধ্যে যারা হাই রিস্কে আছেন তাঁদের ফলো আপ চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়। ডিএম হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডা মিশ্র সবাইকে কিডনির যত্নের ব্যাপারে সচেতন হতে আহ্বান জানালেন। আজ এই হসপিটাল এর সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার অভিজিৎ চাকি এবং ডাক্তার শৈলেন্দ্র নাথ সাবুই।
Comments
Post a Comment